রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাকিস্থানকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন ভারত

এশিয়া কাপের সর্বশেষ দুই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারলেও ফাইনালে করেছে পাকিস্তান। তবে সেটা জমানো পর্যন্তই। ফল আগের মতোই হয়েছে। ভারতের কাছে ফাইনালে ৫ উইকেটে হেরেছে।

২ বল হাতে রেখে পাওয়া জয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা ধরে রেখেছে ভারত। সবমিলিয়ে ৯ম বারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতেছে তারা। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। সর্বশেষ যে বার জিতেছে সেই ২০১৬ সালে প্রথমবার সংক্ষিপ্ত সংস্করণের আসর হয়।

অনেক দিন পর দুই দলের রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ের দেখা মিলছেল। ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ১৮ বলে ৩০ রান প্রয়োজন ছিল ভারতের। হাতে ছিল ৬ উইকেট। এমন সমীকরণে বোলিংয়ে এসে ১৮তম ওভারে ১৩ রান দেন হারিস রউফ।

এতে সমীকরণ দাঁড়ায় ১২ বলে ১৭ রানের। উইকেটের সমীকরণ আগের মতোই। সেখান থেকে মাত্র ৭ রান দিয়ে এক উইকেট তুলে নেন ফাহিম আশরাফ। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে শিবম দুবেকে বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো শাহীন আফ্রিদির ক্যাচ বানান পাকিস্তানি পেসার।
শেষ ৬ বলে ১০ রানের সমীকরণ প্রথম বলে ২ রান দেন হারিস।

তবে ফিরতি বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয় হাত ছোঁয়া দূরত্বে নিয়ে আসেন ম্যাচের নায়ক তিলক ভার্মা। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নিয়ে ম্যাচ ড্র করেন বাঁহাতি ওপেনার। চতুর্থ বলে চার হাঁকিয়ে উদযাপনের মুহূর্ত তৈরি করেন রিংকু সিং।
ভারতের ম্যাচ জয়ের নায়ক তিলক। কেননা পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং ধসে পড়েছিল ভারত। রান করতে পেরেছিল মাত্র ৩৬। যা এবারের টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লেতে ভারতের সর্বনিম্ন। সেখান থেকে সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথ প্রশস্ত করেন তিনি। স্যামসন ব্যক্তিগত ২৪ রানে ফিরলে দুবেকে নিয়ে ম্যাচের শেষটা প্রায় করেছিলেন তিলক। জয়ের ১০ রান আগে দুবে আউট হলে শেষটা নিজেই করেন তিলক। ৫৩ বলে খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস। মারেন ৩ চারের বিপরীতে ৪ ছক্কা।

তিলকের বীরত্বে ম্লান হয়েছে ফাহিম আশরাফের দুর্দান্ত বোলিং। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেওয়া পেসার পাওয়ার প্লেতে নিয়েছিলেন দুটি। ২০ রানে ৩ উইকেট হারানো ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও শুবমান গিলকে ফিরিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচটা শেষ ওভারে নিয়ে গিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছাড়া হয়নি তাদের।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় লক্ষ্যের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। কেননা উদ্বোধনী জুটিতে ৮৪ রানে তোলেন শাহিবজাদা ফারহান এবং ফখর জামান। কিন্তু শেষ ৯ উইকেট মাত্র ৩৩ রানে হারায় পাকিস্তান। তাতে ১৪৬ রানেই থামতে হয় তাদের। দুই ওপেনার মিলে করেন ১০৩ রান। ফারহানের ৫৭ রানের বিপরীতে ফখর করেন ৪৬ রান। পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেওয়া চায়নাম্যান স্পিনার কুলদীপ যাদব। আর দুটি করে নেন জাসপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তী।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *