যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ জনে। এরমধ্যে ২৮ জনই শিশু। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪১ জন। তাদের সন্ধানে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আপগামী শুক্রবার টেক্সাস সফর করতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আরও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক প্রতিবেদনে সোমবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ভারী বৃষ্টির কারণে গুয়াডালুপ নদীর পানি বেড়ে গত শুক্রবার অঙ্গরাজ্যটির মধ্যাঞ্চলে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কের কাউন্টি। শিশুসহ সেখানে অর্ধশতাধিক মানুষ মারা গেছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ত্রাভিস, বার্নেট, কেন্ডাল, উইলিয়ামসন এবং টম গ্রিন কাউন্টিতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
জীবিতদের সন্ধানে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাতে ৬ শতাধিক উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যায় গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ ১২ জনকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। পার্বত্য এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। যেকোনো সময় পানি বেড়ে যেতে পারে। আপনি ভেসে যেতে পারেন। তাই বাসিন্দাদের রাস্তায় গাড়ি চালানোর বিষয়ে সতর্ক করছি। তাদেরকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।
কের কাউন্টির বন্যাকে বড় ধরনের বিপর্যয় বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাই এখন থেকে টেক্সাসে সহায়তা দিতে পারবে ফেডারেল সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে আগামী শুক্রবার টেক্সাস সফর করতে পারেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে টেক্সাস গভর্নরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। যা ঘটেছে তা খুবই ভয়াবহ। যারা এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তাদের ও টেক্সাস রাজ্যের মঙ্গল কামনা করছি।’
এদিকে, আগামী কয়েকদিন টেক্সাসে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
