যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইয়ারন লিশিনস্কি এবং সারাহ লিন মিলগ্রিম নামক ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বুধবার (২১ মে) এই ঘটনা ঘটে।জাদুঘরের একটি অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে আসার সময় একজন বন্দুকধারী তাদের দিকে গুলি চালায়। হামলার পর তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরপরই সন্দেহভাজন হামলাকারী ইলিয়াস রদ্রিগেজকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তিনি শিকাগোর বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আটক করার পর তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং সে নিজেই অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। আটকের সময় রদ্রিগেজ ‘মুক্ত, মুক্ত ফিলিস্তিন’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে তার উদ্দেশ্য ঠিক কী ছিল।
এই ঘটনার পর ইসরায়েল ও মার্কিন কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হার্জোগ এটিকে একটি ‘ঘৃণ্য কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন এটি ইহুদি-বিদ্বেষ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল ও ইহুদি জাতির বিরুদ্ধে উস্কানির যে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, এই হামলা তারই ভয়াবহ প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে নিন্দা করেন এবং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঘৃণার কোনও স্থান নেই। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জার্মান চ্যান্সেলর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারাও এই হামলার নিন্দা করেছেন এবং এটিকে একটি জঘন্য ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেন, গত বছরের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল ও ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে যে ধরনের বিষাক্ত বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, এই হামলা তারই ফল। তিনি বলেন, এই ঘৃণার পরিবেশ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও সহিংসতা ঘটতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
