দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একের পর এক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যাওয়ার অভিযোগ তুলে আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও গভীর করে তুলেছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদ’ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ তোলেন। তবে সেই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।
সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বয়কটের বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, অনুষ্ঠানের এজেন্ডা ‘এই প্রশাসনের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়’।
রুবিওর ভাষ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাপকভাবে ইরান এবং চীনের মতো দেশগুলোর সাথে নিজেদের সারিবদ্ধ করে, যাদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে।
এ সময় রুবিও ইসরায়েলের প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানেরও সমালোচনা করেন। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় বর্বর আগ্রসনের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। আদালত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা নেতানিয়াহু সরকার উপেক্ষা করে।
প্রসঙ্গত, রুবিওর এসব মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন প্রেসিডেন্ট রামাফোসা ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও পুনরুজ্জীবিত করার’ প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটনে এসেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা বুধবার (২১ মে) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার সরকারের উত্থাপিত বাণিজ্য প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
