ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় মার্কিন মুলুকে। মারাত্মক টর্নেডোয় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে মধ্য-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ওহিয়ো নদীর উপত্যকা। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন। মিসৌরি, কেনটাকি এবং ভার্জিনিয়ায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
এই টর্নেডো ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কেনটাকিতে, যেখানে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ১৮ জন মারা গেছে এবং আরও ১০ জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইমার্জেন্সি ডিরেক্টর এরিক গিবসন জানিয়েছেন, সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কেনটাকি এলাকাতেই। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মোতাবেক মিসৌরির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সেখানে প্রায় সাতজন মারা গেছেন, এবং ভার্জিনিয়ায় গাছ ভেঙে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের শেয়ার করা ড্রোন ফুটেজে কেন্টাকির ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে টর্নেডোর আঘাতে ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং গাছের গুঁড়ি রাস্তায় উপরে পড়ে রয়েছে।
গভর্নর অ্যান্ডি বেশেয়ার জানিয়েছেন, বেশ কিছু রাজ্য সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় চালু হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। গভর্নর অ্যান্ডি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শেরিফের অফিস জানিয়েছে যে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করেছে এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কায়লা প্যাটারসন বলেন, “আক্ষরিক অর্থেই দূর থেকে কেবল জিনিসপত্র ভেঙে পড়ার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।
সর্বত্র কাঁচ ভেঙে পড়ছিলো। এটা ছিল ভয়াবহ একটি ঝড়। প্যাটারসন বলেন, তাদের নিজের বাড়িটি রক্ষা পেলেও, পিছনে থাকা একাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা অফিসগুলোতে ব্যাপকভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এই মারাত্মক টর্নেডো আঘাত হানলো। যা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।
