যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ, গঠনমূলক’ বাণিজ্য আলোচনার প্রশংসায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক ‘পুরোপুরি নতুন ভাবে শুরু হতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার প্রথম দিন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন, জানিয়েছে বিবিসি।

শনিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুইজারল্যান্ডের আলোচনাকে ‘চমৎকার’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে এ পরিবর্তন এসেছে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে’।

রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট চলতি বছর দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ঢোকার পর চীন থেকে আমদানি পণ্যে বারবার শুল্ক বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ এপ্রিলে গিয়ে এই শুল্ক দাঁড়িয়েছে ১৪৫ শতাংশে। এর পাল্টায় চীনও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা অনেক পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে।

কয়েক মাসের চাপান-উতোরের পর দুই দেশ চলতি সপ্তাহ থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়।

বেইজিং-ওয়াশিংটন প্রথম দিনের বাণিজ্য আলোচনায় কী কী নিয়ে কথা হয়েছে সে বিষয়ে ট্রাম্পের পোস্ট ছাড়া এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। দুই দেশের কর্মকর্তারা রোববারও আলোচনা চালিয়ে যাবেন। চীনের হয়ে এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস-প্রিমিয়ার হে লাইফেং, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

“চীন-যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থেই আমরা চাই চীনের বাজার আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুলে দেওয়া হোক। দারুণ অগ্রগতি হয়েছে,” বলেছেন ট্রাম্প।

এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ওয়াশিংটন একতরফা শুল্ক কমাবে না, চীনকেও ছাড় দিতে হবে।

সুইজারল্যান্ডের বৈঠকের আগে বেইজিংও বলেছে, তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে আনুক। অন্যদিকে বেসেন্ট বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ‘উত্তেজনা কমিয়ে আনা’, এবং এই আলোচনায় ‘বড় কোনো বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে না’।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক প্রত্যাশা, নিজ দেশের স্বার্থ এবং আমেরিকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আকুতি বিবেচনায় নিয়ে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *