৫ আগস্টের পর থেকে অবৈধ এক টাকা স্পর্শ করিনি: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে দাবি করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি অবৈধ কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি এবং অনৈতিক সুপারিশও প্রশ্রয় দেননি। তিনি বলেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি, যা অভ্যুত্থানের রক্তের কমিটমেন্টের সমান।

সারজিস আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, “যে অভিযোগগুলোর সাথে দূর-দুরান্তেও আমি আমার কোন সম্পর্ক খুঁজে পাইনি, সেগুলোর ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা কিভাবে সম্ভব?” তিনি আরও বলেন, “বাকিগুলো এড়িয়ে গিয়েছে।”

তিনি বলেন, “যে কেউ যদি কারো অজান্তে একজনের নাম ভাঙিয়ে কোন কিছু করেও থাকে, তাহলে সে দায় একান্তই তার। সে অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হতে পারে।”

সারজিস আলম গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমাকে নিয়ে তার ফেসবুকে লেখা অভিযোগগুলো তিনি যদি সত্য প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দিব। আর যদি না পারেন, তাহলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিবেন। গাটস্ থাকলে এই চ্যালেঞ্জটুকু তিনি গ্রহণ করুক।”

তিনি আরও বলেন, “পিনাকি দাদাকে আমি শ্রদ্ধা করি। ফ্যাসিস্ট বিরোধী লড়াইয়ের তিনি একজন অগ্রসৈনিক। কিন্তু তিনি যখন অনুমানের প্রেক্ষিতে আর্মি চিফের সাথে ঘুটু করার কথা বলেন, তখন ব্যথিত হই।” তিনি বলেন, “বিনয়ের সাথে তাকে বলতে চাই, অভ্যুত্থানের শক্তি আর ফেসগুলোকে আইসোলেটেড করার মাধ্যমে তারুণ্যের সম্ভাবনাকে শেষ করে দেওয়ার নানা অপচেষ্টা এখন হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে।”

সারজিস আলম তাঁর পোস্টে আরও বলেন, “যারা আগে থেকে অন্য রাজনৈতিক দলের ছিল, এটা বরং তাদের চেয়েও কঠিন। বিবেকবোধ আর ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখে এই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই আজ আমরা বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছি। যে ‘বর্তমান’ রক্ত আর জীবন দিয়ে লেখা।”

তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত অবৈধ এক টাকা স্পর্শ করিনি, অনৈতিক কোন সুপারিশকে প্রশ্রয় দেইনি। এটা আমার কাছে অভ্যুত্থানের রক্তের কমিটমেন্ট। আমার নিজের সাথে নিজের কমিটমেন্ট।”

সারজিস আলমের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *