কাশ্মীরের বর্বর হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শাহরুখ, চাইলেন বিচার

ভারতের কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে মঙ্গলবার (২২শে এপ্রিল) সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা ভারত। ঘটনায় সোচ্চার হয়েছেন বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতারা।

অক্ষয় কুমার থেকে ভিকি কৌশল, জাহ্নবী কাপুর, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কারিনা কাপুরসহ আরো অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন এবং বিচারের দাবি তুলেছেন। পহেলগাঁওয়ে এই হামলায় এবার সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে শাহরুখ খান তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, পহেলগাঁওয়ে যে বিশ্বাসঘাতকতা, অমানবিক ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে, তাতে দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা নেই।

বলিউডের এই নায়ক আরো লেখেন, এই কঠিন সময়ে, শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য গভীর সমবেদনা জানাই। এই পরিস্থিতিতে আমরা যেন একটি জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকি, শক্তিশালী হই এবং এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাই।

শাহরুখ খানকে তার বাবা তিনটি জায়গা ঘুরে দেখতে বলেছিলেন—ইস্তাম্বুল, প্যারিস আর কাশ্মীর। সেই সঙ্গে অনুরোধ, প্রথম দুটো জায়গা তার ছেলে নিজের মতো করে ঘুরে দেখতেই পারে, কিন্তু কাশ্মীর নয়। ‘আমি তোমায় কাশ্মীর ঘুরে দেখাব। তুমি আমার সঙ্গে যেও’, আর্জি শাহরুখের বাবার।

কারণ? অভিনেতার দাদি জন্মসূত্রে কাশ্মীরি। তার বাবা তাই ভূস্বর্গকে হাতের তালুর মতো চিনতেন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছেন শাহরুখ। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে পারেননি তাই। আর তাই ২০১২ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরে পা রাখেননি।

তার কথায়, ‘কতবার বন্ধুরা ডেকেছে। আমার পরিবার ছুটিতে কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছে। অনেক সময় শুটিংয়ের সুযোগও এসেছে। আমি বাকি দুটো জায়গা ঘুরেছি। কেবল কাশ্মীর ছাড়া। বাবা নেই যে আর! কার সঙ্গে কাশ্মীর যাব? ওখানে গেলে বাবাকে মিস করব। বাবার জীবনের অনেকটা উপত্যকায় কেটেছে।

২০১২-য় যশ চোপড়া বানান ‘যাব তাক হ্যায় জান’। প্রযোজককে তিনি বাবার মতোই সম্মান করতেন, ভালোবাসতেন। তাই যশ যখন তাকে বলেছিলেন, ‘আমার সঙ্গে চলো। আমি তোমায় কাশ্মীর দেখাব’, না করতে পারেননি তিনি। ‘সেই প্রথম আমার কাশ্মীর যাওয়া। সেই প্রথম ভূস্বর্গের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচয়। ওখানে পা দিয়েই মনে হচ্ছিল, যেন বাবার কাছে এলাম! বাবাও তো ছেলে বেলায় এখানে ঘুরে বেড়াতেন।’ পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যশ চোপড়ার সঙ্গে উপত্যকা ঘুরে দেখতে দেখতে তার মনে হয়েছিল, বাবা প্রযোজকের রূপ ধরে তাকে কাশ্মীর চেনাচ্ছেন।

যে জায়গার সঙ্গে অভিনেতার পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মিক টান সেই জায়গায় এত নৃশংসতা তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। একই সঙ্গে যন্ত্রণাও পাচ্ছেন। সেই দুঃখ, সেই হতাশা প্রকাশ করার ভাষা নেই তার। তিনি তাই ঈশ্বরের স্মরণ নিয়েছেন। আগামীতে যেন এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, প্রার্থনা তার। যারা অসময়ে চলে গেলেন, তাদের পরিবারকেও সান্ত্বনা জানিয়েছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *