সূচনা ফাউন্ডেশনের ৩৩ কোটি আত্মসাৎ: পুতুল ও নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ভুক্ত ব্যাংকের সিএসআর খাত থেকে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ৩৩ কোটি টাকা সহায়তার নামে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একই সঙ্গে জীবন বৃত্তান্তে ভুয়া যোগ্যতা দেখিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের অভিযোগে পুতুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আরও একটি মামলা করেছে দুদক।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক তাহাসিন মুনোবীল হক বাদী হয়ে মামলাটি দুটি দায়ের করেন। সংস্থাটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়, তারা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসভুক্ত ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে সূচনা ফাউন্ডেশনে টাকা প্রদানের চাপ প্রদান করেন। এর ফলে ২০১৭ সালের মে মাসে ২০টি ব্যাংক বাধ্য হয়ে তাদের সিএসআর খাত থেকে ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনের অনুকূলে প্রদানের জন্য বাধ্য করা হয়।

এই অর্থ কিভাবে এবং কোন খাতে খরচ করা হয়েছে, তা জানার জন্য অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সূচনা ফাউন্ডেশনে দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি এবং দুদকের এক অভিযানেও প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে বলা হয়।

ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমাকৃত অর্থ (সিএসআর ফান্ড) এভাবে অপব্যয় এবং আত্মসাতের অভিযোগ আসায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরেক মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে বলা হয়, তিনি এ পদে নিয়োগ লাভের উদ্দেশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২০২৩ সালে সিভি পাঠান। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শিক্ষকতা/শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি করে আবেদন এবং পরবর্তী সময়ে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সিভিতে তিনি বিএসএমএমইউ’র শিক্ষকতা/শিক্ষা ম্যানুয়েল রিভিউ সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, অটিজম এবং মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। এ দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা উল্লেখ করায় তার সিভি সমৃদ্ধ হয়, যার ফলে আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের পথ সুগম হয়।

কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভের জন্য দাখিল করা সিভিতে জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা ও ভুয়া যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *