ইলন মাস্ককে আরো আগ্রাসী হতে বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছেন, তিনি চান তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্ক সরকারি ব্যয় কমানো ও ফেডারেল সরকারের সংস্কার এজেন্ডা আরো আগ্রাসীভাবে বাস্তবায়ন করুক।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফরমে লিখেছেন, ‘ইলন দারুণ কাজ করছে, কিন্তু আমি চাই সে আরো আগ্রাসী হোক। মনে রাখবেন, আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে।’ ট্রাম্প প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মাস্ককে ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির (ডিওজিই) দায়িত্ব দিয়েছেন, যার কাজ হবে সরকারি ব্যয় কমানো এবং অপচয় ও কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও ট্রাম্পের বৃহত্তম দাতা মাস্ক ইতিমধ্যে ফেডারেল কর্মীদের একাংশকে বরখাস্ত করার কাজ শুরু করেছেন। শুক্রবার ঘোষিত সর্বশেষ ছাঁটাইয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আগামী সপ্তাহ থেকে এর বেসামরিক কর্মীদের সংখ্যা অন্তত পাঁচ শতাংশ কমাবে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে প্রোবেশনারি অবস্থায় থাকা বহু ফেডারেল কর্মীকে বরখাস্ত করা শুরু করেছে।

মাস্ক পরিচালিত স্বাধীন সংস্থা ডিওজিইয়ের এই ব্যয় কমানোর প্রচেষ্টা বিভিন্ন দিক থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে এবং আদালতের রায়ের মুখোমুখিও হয়েছে।

একজন বিচারক বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের দাখিল করা একটি আবেদন নাকচ করে দেন, যেখানে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

মাস্ক এই সপ্তাহে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ততক্ষণ কাজ করবেন, যতক্ষণ তিনি ‘সহায়ক থাকবেন’। তারা দুজনই মাস্কের সরকারি চুক্তিগুলোর কারণে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘর্ষের বিষয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মাস্কের প্রশংসা করে তাকে ‘উজ্জ্বল’, ‘সৎ’ ও ‘একজন খুবই ভালো ও দৃঢ় ব্যবসায়ী’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘যদি কোনো স্বার্থের সংঘর্ষ থাকে, তবে সে নিজেই তা বন্ধ করবে। আর যদি না করে, আমি তা থামাব। আমরা বড় বিষয় নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু ওর ওপর কঠিন নজরদারি চলছে। মানে, সবাই ওর দিকে নজর রাখছে।’

মাস্ক জানান, ডিওজিই তাদের কার্যক্রম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করছে এবং এই স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম করে পার পেয়ে যাব, সেই সম্ভাবনা শূন্য শতাংশ। আমাকে হাস্যকর মাত্রায় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। মাস্ক এই সপ্তাহে ইউক্রেন সংঘাত নিয়েও মতামত দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেছেন, ইউক্রেনীয়রা তাদের প্রেসিডেন্টকে ‘ঘৃণা’ করে। ট্রাম্পও এই সমালোচনা জোরদার করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *