দেশের অনিয়ম ও দূর্নীতি বন্ধে প্রবাসীদের নির্বাচিত করতে হবে: গিয়াস আহমেদ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে `তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ও সোনালী এক্সচেঞ্জ কোং ইনক্, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সরকারি/বেসরকারি এক্সচেঞ্জ হা্উসের প্রতিনিধিবৃন্দ, দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, সংস্কৃতি ও মিডিয়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ বান্ধব সংস্কারের উপর একটি ওয়েবিনারের ভিডিও প্রদর্শন করা হয় যেখানে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি (BIDA) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে সকলকে নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিনিয়োগে নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রকল্পে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশে বেশী বেশী করে বিনিয়োগের আহবান জানান। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব বর্ণনা করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি করার ব্যাপারে একচেঞ্জ হাউসগুলোকে পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানান।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও দূর্নীতিমুক্ত করার বিষয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও মূল ধারার রাজনীতিবিদ গিয়াস আহমেদ বলেন, যদি দেশকে দূর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নশীল করতে হয় তাহলে প্রবাসীদের মধ্যে থেকে কিছু নেতা নির্বাচন করতে হবে। কারন তাদের চোখে অনিয়ম দূর্নীতিগুলো বেশি ধরা পড়ে। এর অন্যতম প্রধান কারন হলো প্রবাসে তেমন অনিয়ম বা দূর্নীতি নেই। তারা তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সচ্ছভাবে দেখবেন এবং অনিয়ম ও দূর্নীতি বন্ধ করে দেশকে সত্যিকারের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে রুপান্তরিত করতে পারবেন। এসময় তিনি প্রবাসীদের নানান সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জের সিইও মহসিন কবির তাঁর বক্তব্যে প্রচলিত বিনিয়োগের পাশাপাশি স্টক ও বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধাসমূহের উপর প্রবাসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে সরকারী প্রণোদনার সুবিধা গ্রহনপূর্বক তিনি সকলকে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহবান জানান।

কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা তাঁর স্বাগতিক বক্তব্যে বাংলাদেশকে ব্যবসা-বিনিয়োগের এক অপার সম্ভাবনার দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের ক্রম-বর্ধমান অর্থনীতি, দ্রুত বিকাশমান শিল্প ও সেবাখাত, তরুণ জনগোষ্ঠী, পরিশ্রমী এবং মেধাবী শ্রমের সহজলভ্যতা, দ্র্রুত-প্রসারমান প্রযুক্তি-সামর্থ্যসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো উল্লেখ করে তিনি সবাইকে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় বিনিয়োগ সুবিধাসমূহ গ্রহন করার আহবান জানান। অধিকতর ক্রয়-ক্ষমতা সম্পন্ন একটি উদীয়মান মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশকে তিনি একটি বড় সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবেও চিত্রিত করেন। ২০২৪ পরবর্তী বদলে যাওয়া বাংলাদেশ সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী অর্থনীতির গণতান্ত্রিক দেশে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *