টিউলিপ মিথ্যা বলেছেন কি না, তদন্ত করবে ব্রিটিশ সরকার

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক একটি সংবাদমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দশক আগে টিউলিপ লন্ডনের কিংস ক্রস এলাকায় একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছিলেন আবদুল মোতালিফ নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। বর্তমানে ফ্ল্যাটটির মূল্য প্রায় ৭ লাখ পাউন্ড। সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করেছে, আবদুল মোতালিফের সঙ্গে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের যোগসূত্র রয়েছে।

কিংস ক্রসের ফ্ল্যাটের বিষয়ে ২০২২ সালে টিউলিপ সিদ্দিক বলেছিলেন, এটি তিনি উপহার হিসেবে পাননি বরং তার বাবা-মা ওই ফ্ল্যাট তাকে কিনে দিয়েছেন। এমনকি এ ব্যাপারে বিশদ প্রশ্ন করা হলে তিনি ডেইলি মেইলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু লেবার পার্টির সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ফ্ল্যাটটি তার খালার সাথে যুক্ত একজন আবাসন ব্যবসায়ী ‘কৃতজ্ঞতার প্রতিদান’ হিসাবে দিয়েছিল।

টিউলিপ সিদ্দিকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ডেইলি মেইলকে বলেছেন, “তিনি (টিউলিপ) কীভাবে সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছিলেন সে সম্পর্কে আগের জানার পরিবর্তন হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিট সোমবার নিশ্চিত করেছে যে, টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের কিংস ক্রসে সাত লাখ পাউন্ডের অ্যাপার্টমেন্ট সম্পর্কে সত্য বলেছেন কি না, সেই বিষয়ে মিনিস্ট্রিয়াল কোডের বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীন উপদেষ্টা তদন্ত করতে পারেন। ব্রিটিশ সরকারের ইনডিপেনডেন্ট এথিকস অ্যাডভাইজর (স্ট্যান্ডার্ডস ওয়াচডগ) স্যার লাউরি ম্যাগনাস এ বিষয়ে তদন্ত করবেন।

ডাউনিং স্ট্রিট নিশ্চিত করেছে, টিউলিপের অতীতের বিবৃতি পরীক্ষা করাসহ তদন্তের পরিধি সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন স্যার লাউরি।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, “হালনাগাদ করা মিনিস্ট্রিয়াল কোডে নতুন বিধান রয়েছে যেখানে একজন মন্ত্রী তদন্তের প্রয়োজনসহ আরো পদক্ষেপের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য একটি বিষয় স্বাধীন উপদেষ্টার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানাতে পারেন।”

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট উপহার নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সোমবার তা তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক নিজেই। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্যার লাউরি ম্যাগনাসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *