নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম দেশ: চলতি বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বাংলাদেশে আমেরিকান ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই)। উক্ত আয়োজনে বাংলাদেশে আমেরিকান অ্যাম্বাসিডর উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে আয়োজক কমিটি। উক্ত অনুষ্ঠানে আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই) বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ভোটের অধিকার নিশ্চিতকরনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের পরিবারবর্গের সাহায্যের জন্য ড. ইউনূসের জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে আমরা ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) নিউইয়ের্কে অনুষ্ঠিত এবিসিসিআইয়ের নতুন কমিটিকে নিয়ে এক সভায় এসব তথ্য জানিয়েছেন আমেরিকায় বাংলাদেশ কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও মূলধারার রাজনীতিবীদ গিয়াস আহমেদ।
গিয়াস আহমেদ বলেছেন, আমরা এখানে আমেরিকান চেম্বারের সাথে কথা বলেছি, আমেরিকান চেম্বারের মেম্বারশীপ তখন আমরা নিয়েছিলাম এবং আমেরিকান মেম্বারের যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (এমচ্যাম) গঠন করার জন্য আমরা অনুরোধ করি। আমরা যখন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার গঠন করি তখন বাংলাদেশে কোনও ধরনের চেম্বার অব কমার্সের কার্যক্রম ছিলো না। আমরা কয়েকটি মিটিং করেছি। মিটিং করার ফলে প্রেসিডেন্ট তখন আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশে তারা এমচ্যাম গঠন করতে চান না, কারন বাংলাদেশে আমেরিকানদের কোন বিজনেস নেই। আজ থেকে ২০ বছর আগে বাংলাদেশে আমেরিকানদের তেমন কোন বিজনেস ছিলো না। সে কারনে এমচ্যাম গঠন করার জন্য তিনি রাজি হননি। আমাদের অনুরোধ পরবর্তীতে এমচ্যাম গঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশে আমরা আমেরিকানদের নিয়ে এ ব্যাপারে কয়েকটি মিটিং করেছি। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশে এমচ্যাম গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের একটি অবদান আছে। গত সপ্তাহেও আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। গত কয়েকবছর আমরা আমদের এই সংগঠনের তেমন কোন কাজ করতে পারিনি।
তিনি আরও জানান, এবার আমরা কয়েক মাস আগে আবার মিটিং করেছি এবং আমরা কমিটিটা নতুন করে সাজিয়েছি। সে কমিটি সাজানোর যারা নেতৃত্বে আসছেন তাদের সাথে সাংবাদিকদের পরিচয় করানোর জন্য আজকের এই আয়োজন। আমাদের আগে এটি নিয়োগভিত্তিক ছিলো এবং এটি আমার বর্তমানে বিভিন্ন স্টেটে ২/৩ জন করে প্রতিনিধি দিয়েছি। বাংলাদেশে আমরা তখনও এমচ্যাম গঠন না হওয়ার ফলে লিয়াজো অফিস বা চ্যাপ্টার করতে পারনি। এখন আমার ভাবছি যে, বাংলাদেশে একটা চ্যাপ্টার গঠন করবো। সে ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমরা ঢাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মধ্যে যারা আমেরিকানদের সাথে ব্যবসা করতে চান তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা একটা কমিটি গঠন করবো। সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের ২৩ তারিখে আমরা হোটেল শেরাটনে সে সকল ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা ও মতবিনিময়ের আয়োজন করেছি। বাংলাদেশে আমেরিকান যে অ্যাম্বাসিডর তিনি উপস্থিত থাকবেন বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন। আমরা কয়েকজন উপদেষ্টাকেও দাওয়াত দিবো। বাংলাদেশে যারা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমেরিকানদের সাথে ব্যবসা করেন আমরা তাদেরকেও দাওয়াত দিবো। নিউইয়র্ক থেকে এ কমিটির ২০ থেকে ৩০ জন মিলে আমরা বাংলাদেশে যাচ্ছি। এবং আমরা আনন্দের সাথে বলতে চাই, আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই) বাংলাদেশের দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ভোটের অধিকার নিশ্চিতকরনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের পরিবারবর্গের সাহায্যের জন্য ড. ইউনূসের জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে আমরা ১ কোটি টাকা অনুদান দিবো।
গিয়াস আহমেদ বলেন, ২০০১ সালে আমেরিকান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (এবিসিসিআই) গঠন করেছিলাম। বাংলাদেশে আমরা ককাসের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ইউনিভিার্সিটি ফর ওমেন প্রতিষ্ঠা করতে সহযোগিতা করেছিলাম। এটা এর আগে আরও কয়েকটি দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তানও চেয়েছিলো। কিন্তু আমরা চট্টগ্রামে এটা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। আর এবিসিসিআই শুধু বিদেশের সাথে ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় ছিলো না। আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্যও লড়াই করে গেছি। আমরা স্বাধীনতার পক্ষে এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেও কাজ করেছি। কারন বাংলাদেশে যদি গণতন্ত্র থাকে, ন্যায়বিচার থাকে তাহলে আমার যারা প্রবাসে ব্যবসা করি আমাদের এ কার্যক্রম আরও সুফল হয়। আমাদেরকে সেভাবেই তারা চিনবে। বিদেশীরা এটা চিনবে যে, বাংলাদেশ একটি ভালো দেশ, আমরা সে দেশের নাগরিক। তারা আমাদের সেভাবে বিশ্বাস করবে। আর আমাদের স্টেট ডিপার্টমেন্টে যদি বাংলাদেশ ঝুকিপূর্ন, বাংলাদেশ দূর্নীতিগ্রস্থ, সেখানে ভ্রমণ করা যাবে না বলে উল্লেখ থাকে তাহলে আমাদের ব্যবসার কিন্তু প্রসার হবে না। কারন এখানের মেইনস্ট্রিম আমাদের ব্যবসার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিবে না। আমেরিকানরা কখনো মেক্সিকান ও নাইজেরিয়ানদের বিশ্বাস করে না। কারন তারা নিজেদের দেশে দূর্নীতিগ্রস্থ। তাই আমাদের সবাইকে এই দিক দিয়ে সতর্কতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে। গিয়াস আহমেদের কমিটি ঘোষনার পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আসেফ বারী টুটুল, সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মানসহ অন্যন্যারা।
