গাজায় ৪ জিম্মিকে উদ্ধারের অভিযানে ২১০ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরায়েলি হামলায় গাজার কেন্দ্রীয় শরণার্থীশিবিরে শনিবার অন্তত ২১০ জন নিহত হয়েছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে এদিন চার জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়। হামাসের সরকারি মিডিয়া অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘জটিল ও বিপজ্জনক’ এ অভিযান ইতিহাসে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রেস অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, নুসিরাত ক্যাম্পে ইসরায়েলি দখলদাররা গণহত্যা চালিয়েছে। এতে ২১০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার নুসিরাত থেকে চার ইসরায়েলি জিম্মিকে উদ্ধার করার ঘোষণা দেয়। সেখানে তারা একটি অভিযান পরিচালনার কথাও বলেছে।

সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত জিম্মিদের নোয়া আরগামানি (২৬), আলমোগ মেইর জান (২২), আন্দ্রে কোজলভ (২৭) ও শ্লোমি জিভ (৪১) হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি পুলিশ বলছে, অভিযান চলাকালে কাউন্টার-টেররিজম ইউনিটের কমান্ডার আর্নন জামোরা নিহত হয়েছেন। অভিযানের সময় জামোরা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এর আগে শনিবার সেনাবাহিনী একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছিল, তাদের বাহিনী ‘নুসিরাত এলাকায় সন্ত্রাসী অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে’।

এদিকে হামাস বলেছে, উদ্ধারকৃত জিম্মিরা ইসরায়েলের ‘কৌশলগত ব্যর্থতা’ পরিবর্তন করবে না। গ্রুপটি তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বিবৃতিতে বলেছে, চার জিম্মির মুক্ত হওয়া ‘গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কৌশলগত ব্যর্থতা পরিবর্তন করবে না’, বিশেষ করে অভিযানটি কার্যকর করতে আট মাস সময় নেওয়ার পর।

হামাস আরো বলেছে, ‘প্রতিরোধ (গোষ্ঠী) এখনো অনেকসংখ্যক জিম্মিকে ধরে রেখেছে এবং এ সংখ্যা বাড়াতে পারে।’ ফিলিস্তিনি এ গোষ্ঠীটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই ইসরায়েলি অভিযানে সহায়তা করেছে—এমন খবর ‘আরো একবার’ প্রমাণ করে, অবরুদ্ধ উপকূলীয় ভূখণ্ডে ওয়াশিংটন ‘সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মতো অবৈধ কাজের সহযোগী ও সম্পূর্ণভাবে জড়িত’।

এ ছাড়া ক্যাম্পে ইসরায়েলি হামলার পর হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না। প্রতিরোধ (গোষ্ঠী) এই অপরাধী শত্রুর মুখে আমাদের অধিকার রক্ষা করতে থাকবে।’

হামাস সরকার একটি পূর্ববর্তী বিবৃতিতে নুসিরাত ও এর আশপাশে ৯৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। হতাহতদের দেইর আল-বালাহতে অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তারা। পাশাপাশি তারা বলেছে, হাসপাতালটি বিপুলসংখ্যক হতাহতদের সামলাতে অক্ষম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন জানায় তারা।

সূত্র : এএফপি

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *