শ্রীমঙ্গলে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে বাজিমাত: বিক্রি হবে ৮০ লাখ টাকার শিম

গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডেঙ্গারবন গ্রামের শিমচাষীরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে ভাল দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি শিম চাষীরা। কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে শুধু শ্রীমঙ্গলের ডেঙ্গারবন গ্রাম থেকে শিম বিক্রি করে ৮০ লাখ টাকা আয় হবে।

স্হানীয় কৃষি অধিদপ্তর সুত্র জানায়, চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে উপজেলার আশীদ্রোন ইউনিয়নের ডেঙ্গারবন গ্রামে ২০-২৫ জন শিম চাষী প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে শিমচাষ করেন। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত সিকৃবি-১ জাতের শিম চাষ করা হয়। পাওয়া যায় অভাবনীয় সাফল্য। হয়েছে বাস্পার উৎপাদন।

ডেঙ্গারবন গ্রামের শিমচাষী আহসান হাবিব জানান, তিনি তার ৭০ শতাংশ জমিতে সিকৃবি-১ জাতের শিম চাষ করেন। বাঁশ, সুতা, তার, মাচা, সার ও শ্রমিকসহ তার খরচ হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত তার শিম বিক্রি করে আয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। প্রতি কেজি শিম তিনি বিক্রি করেছেন ১১০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়। তার জমিতে আরো শিম রয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান।

শ্রীমঙ্গল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান, সিকৃবি-১ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন হয়েছে ৭০০০ থেকে ৮০০০ কেজি। বাজারমুল্য পাওয়া গেছে কেজি প্রতি ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা। মাসুকুর রহমান আরো বলেন, উৎপাদিত এসব শীম সম্পুর্ন বিষমুক্ত। এখানে কীটনাশক এর পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ও হলুদ ট্র্যাপ ব্যবহার করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন জানান, এবার সিকৃবি-১ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিমের ভাল ফলন হওয়ায় এবং ভাল দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হয়েছেন। প্রায় ৪ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত শিম বাজারে বিক্রি করে প্রায় ৮০ লাখ টাকা কৃষকরা আয় করবেন বলে জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *