ঢাকা শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৭ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

বিভাগসমূহ

বাঁচতে চায় পঙ্গুত্ব বরণকারী এক অসহায় মেয়ে

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি || ৬:২৩ অপরাহ্ণ ॥ মে ১৭, ২০২৩

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের থানা পাড়ায় বসবাস করা রফিকুল ইসলাম এর মেয়ে রিনা আক্তার,সে এখন পঙ্গুত্ব বরণ করে দির্ঘ ৪ বছর ধরে বিছানায় শুইয়ে জীবনের মূল্যবান সময় পার করছেন।
২৫ বছর বয়সী এই মেধাবী মেয়ের জীবনে হঠাৎ নেমে আসে অন্ধকার। ২০১৯ সালের দিকে হঠাৎ একদিন তার ব্রেন স্ট্রোক হয়, তখন তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর মেডিকেলে, চিকিৎসা দেওয়া হয় সেখানে, চিকিৎসার গ্রহণ শেষে রিনা বাড়িতে ফিরে আসে। কিছুদিন পর তার পায়ে ঘা দেখা দেয়,সেই ঘা আস্তে আস্তে পুরো পায়ে ছড়িয়ে পড়ে,কিছুদিন পরে মেয়েটি পঙ্গুত্বের কারে। বিছানায় শুয়ে থাকতে থাকতে মেয়েটির পিছন সাইটেও ঘা হয়ে যায়,একসময় তার ঘা গুলো আলসারে পরিনত হয়,আস্তে আস্তে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়া রিনা কে সুস্থ করতে প্রতিবেশীরা সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, পাশাপাশি সরকারি অনুদান হিসেবে পঞ্চাশ হাজার করে দুইবারে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয় তাকে। ভুলে চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে তার বাবা নিরুপায় হয়ে নিজের থাকার ঘরবাড়ী টুকু বিক্রি করে দিয়ে মেয়েকে সুস্থ করতে ইন্ডিয়র ভেলোরে চিকিৎসা করতে নিয়ে যান, ইন্ডিয়ায় নিয়ে গিয়ে তার চিকিৎসা শুরু হয়,বিভিন্ন অপারেশন করা হয় তার ভেলোরে চিকিৎসায় মেয়েটির বাবা সর্বোচ্চ বিলীন করে টাকা পয়সা খরচ করে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। চিকিৎসা শেষে ডাক্তারা আবারো ছয় মাস পর ভেলোরে নিয়ে যেতে বলেন রিনাকে। ২০২৩ এর জুন মাসে তাকে যেতে হবে ইন্ডিয়ায়। এখন তার বাবার এমন অবস্থা মেয়েকে ভেলোরে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা ঔষধ কিনার সামর্থ্য নেই। মেয়েকে বাঁচাতে বিভিন্ন মহলের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কিছু অর্থ জোগাড় করেছেন অসহায় বাবা। কিন্তু মেয়েকে সুস্থ করতে এখনো ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এখন তাদের বসবাস ভাঙ্গাচুরা এক টিনের বাড়িতে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে করতে বাবা যেন নিশ্ব হয়ে গেছে। বাবার কাঁধের উপর বোঝা হয়ে থাকা রিনা আক্তার চায় তার নিঃস্ব ভাবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে একটি বাড়ি করে দেওয়া হোক। অসহায় রিনার মা জানান এখন দুবেলা ঠিক মতো খাবার খাওয়াও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পরেছে, রিনার বাবা একজন সাধারণ কামলা, সবসময় কাজো জোটে না। মেয়ের ঔষধ কিনতে কিনতে হাপিয়ে গেছি, এখন শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। গত ঈদে সরকারী কোন সহযোগিতা পাইনি। ১০ কেজি সরকারি চাউলো জোটেনি আমাদের কপালে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করেছেন। মেয়েটি সহযোগীতা পেলে তার জীবন ফিরে পেতে পারে। সহযোগিতা করতে সরাসরি রিনার নাম্বার ০১৩১৫-৭১৩১৪০ বিকাশ ও নগদ।

Print Friendly, PDF & Email