ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১১ শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

বিভাগসমূহ

খরার কবলে মৌলভীবাজারের চা শিল্প:উৎপাদন ব্যহত হবার আশংকা

আতাউর রহমান কাজল, শ্রীমঙ্গল ( মৌলভীবাজার) || ১:০৪ অপরাহ্ণ ॥ মে ১৩, ২০২৩

খরার কবলে পড়েছে শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের চা শিল্প। অত্যধিক তাপমাত্রা, প্রচন্ড গরম এবং প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্হ হচ্ছে। এ কারনে চা গাছ প্রয়োজনীয় খাদ্য তৈরি করতে না পারায় চা গাছে কাঙিত নতুন কৃুঁড়ি আসতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে চা পাতা চয়নের পরিমান কমে যাচ্ছে। এছাড়া প্রচন্ড গরমের কারনে অনেক চা-বাগানে চায়ের জন্য ক্ষতিকর রেড স্পাইডারের আক্রমন দেখা দিয়েছে। ফলে চা উৎপাদন ব্যাহত হবার আশংকা করা হচ্ছে।

চা বিজ্ঞানীরা জানান, এ বছর বৃহত্তর সিলেটের কোথাও কোথাও এপ্রিলের শুরুতে কিছুটা বৃষ্টিপাত হলেও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং অত্যধিক তাপমাত্রা ও দাবদাহে অধিকাংশ চা-বাগানে চলতি মে মাস পর্যন্ত খরা অব্যাহত রয়েছে। যা এ অঞ্চলের চা শিল্পের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। খরা এবং দাবদাহে অপরিনত চা গাছ ( ইয়াং টি) ও পরিনত চা সেকশনগুলোর ওপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান আনিস জানান, গত ৩০ এপ্রিল ০.২ মিলিমিটার এবং গত ৩ ও ৪ মে দুইদিনে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপর আর কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। তিনি বলেন, গত ৪ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৮.৫ সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করেছে।

চা বোর্ড সুত্র বলছে, চা বাগানের জন্য ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা প্রয়োজন। ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় চা গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে চা গাছের খাদ্য তৈরিসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাপ্রাপ্ত হয়। নতুন পাতা আসতে বিলম্বিত হয়। এ অবস্হায় নতুন চা পাতা চয়নের পরিমান কমে যায়।

রাজনগরের উত্তরবাগ চা বাগানের ম্যানেজার মো. লোকমান চৌধুরী জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় এবং তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ইয়াং টি গুলো মরে যাচ্ছে এবং রেড স্পাইডারের আক্রমন দেখা দিয়েছে।

রাজনগরের মাথিউড়া চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা গাছের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ইয়াং টি মরে যাচ্ছে। বাগানে রেড স্পাইডারের আক্রমন শুরু হয়েছে।

গতকাল দুপুর ১২ টায় শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, চা বাগানে কৃত্রিম উপায়ে অর্থাৎ যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাগানে পানি দেয়া হচ্ছে। চা গাছগুলোকে সতেজ রাখার চেস্টা করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, শ্রীমঙ্গলে অবস্হিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট খরা এবং অত্যধিক তাপমাত্রা থেকে রক্ষা পেতে ও রেড স্পাইডার থেকে চা গাছগুলোকে বাঁচাতে বাগানগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও ছুটির দিনসহ বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তারা চা বাগানে সরজমিন ভিজিট করেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

Print Friendly, PDF & Email

সম্পাদক ও প্রকাশক

 

ওয়েবসাইট: www.prothomdesh.com

 

উপদেষ্টা সম্পাদক