সৈয়দপুরে বিনামুল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে কাজ করছে এফ ও এইচ নামে একটি সংস্থা। দাতা সংস্থা আমেরিকার অর্থায়নে চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এটি পরিচালনা করছে হিট নামে একটি এনজিও। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনে পয়সায় বিতরণ করা হয় শিক্ষা উপকরণ।
এ উপলক্ষে ২৩ মার্চ বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজন করা এক সভা। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ আমিনুল ইসলাম। এনজিও হিটের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ বারী সভায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন সরকার, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাব্বির হোসেন,কো- অর্ডিনেটর আব্দুল লতিফ, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকা,প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষিকা সাইরুন্নার পিংকী, অবাঙ্গালী নেতা মাজিদ ইকবালসহ অনেকে।
এ সময় প্রধান অতিথি এক হাজার তিনশ শিক্ষার্থীদের হাতে বিনে পয়সায় বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ তুলে দেন।
প্রধান অতিথি বলেন,এ বিদ্যালয়টি একটি ব্যতিক্রম। কারণ এখানে সমাজের অসহায় পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করে। তারা সম্পুর্ণ বিনে পয়সায় এখানে পড়াশোনা করছে। শুধু পড়াশোনা নয় তাদেরকে আবার যাতায়াত ভাড়াও দেয়া হয় প্রতিষ্ঠান থেকে। এমন কাজ সমাজে কজন করতে পারে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সকলকে অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথি সৈয়দপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন,এ বিদ্যালয়টির লেখাপড়া অত্যন্ত ভাল। গত বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে তিন জন সরকারী বৃত্তি পেয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এ প্রতিষ্ঠানে সরকারী বই দিয়ে আসছি। যাতে করে শিশুরা তাদের ভবিষৎ ভালভাবে গড়তে পারে।
প্রধান শিক্ষিকা বলেন, সমাজে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে আমরা কাজ করছি। অর্থের অভাবে যে সকল শিশুর লেখাপড়া বন্ধ ছিল আমরা তাদেরকে নিয়ে এসে সম্পুর্ণ বিনে পয়সায় লেখাপড়া করাচ্ছি। যাতে করে তারা লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
প্রোগ্রাম ম্যানেজার সাব্বির হোসেন বলেন,২০১৪ সালে আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু করি। ক্রমান্বয়ে ২০২০ সালে আমরা একটি উচ্চ বিদ্যালয় শাখা চালু করি। বর্তমানে সৈয়দপুর শহরে আমাদের ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এখানে প্রাথমিকে রয়েছে ১ হাজার ১শ শিক্ষার্থী। উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে ৩শ ৮৫ জন শিক্ষার্থী। এদের সকলের বিনে পয়সায় পড়াশোনা করা হচ্ছে। ৫ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে ৪০ জন।
এটি পরিচালনা করছে হিট নামে একটি এনজিও।
আর অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছে দাতা সংস্থা আমেরিকা।
সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ হোসেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থী পুনম,সিফা,ঝর্ণা ও অনামিকা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *