আমেরিকার সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে না গেলে, কোনো ধরনের চুক্তি না হলে কিংবা দেশটি আরও নিষেধাজ্ঞা দিলেও ইরান বহাল তবিয়তে টিকে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আজ সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেন। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমেরিকা এ নিয়ে চুক্তি না করলেও আমরা তো না খেয়ে মরব না।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সরিয়ে আনতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের মরিসটাউন বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বিষয়ে ভালো কোনো খবর দিতে পারব বলেই আমি আশা করি। দুদিন বাদে আমি ভালো না খারাপ খবর দিতে পারব, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তবে, ভালোকিছু হবে বলেই আমি আশাবাদী।’
এই খবর দেওয়ার আগেই ভিন্ন মন্তব্য পাওয়া গেল ইরানের কাছ থেকে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলছেন, ‘তারা যদি চুক্তিতে না আসে কিংবা আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে আমরা যে না খেয়ে মারা যাব, এমন তো নয়। আমরা টিকে থাকার জন্য সবরকম চেষ্টাই করব।’
বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশের অনেক বেশি, তবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের নিচে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং খাতে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। পরের বছর থেকে ইরান চুক্তির আওতাধীন দায়িত্বগুলো পর্যায়ক্রমে কমাতে শুরু করে।
চুক্তির অংশ থাকা ইউরোপের তিন শক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—চুক্তিভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়ে ভাবছে। তবে এই সুযোগ অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাবে। এর আগে চলতি মাসে আরাগচি হুঁশিয়ার করেন, ইউরোপীয় শক্তিগুলো যদি নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পথে এগোয়, তাহলে তা ‘অপূরণীয় পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।
এর মধ্যেই কয়েক দফা আলোচনা হয়ে গেল ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে। আলোচনার ফলাফল কী হতে চলেছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
