শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার আহ্বানে সাড়া দেবে না দিল্লি

দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭৭ বছর বয়সী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া দেবে না ভারত।

প্রত্যর্পণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সূত্রের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। কারণ হিসেবে সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের ইস্যুকে এগিয়ে নিতে ঢাকা প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেনি।

গত ২৩ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি নোট ভারবাল বা স্বাক্ষরবিহীন কূটনৈতিক চিঠিপত্রের মাধ্যমে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপোড়েনের মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছে, কূটনৈতিক বিনিময়ের সর্বনিম্ন স্তরের একটি হলো নোট ভারবাল। সাধারণত প্রত্যর্পণের অনুরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নোট ভারবাল ব্যবহৃত হয় না।

নয়াদিল্লির কিছু মহল প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে ‘ট্রাম্প কার্ড’ বলে মনে করছে। বিশেষ করে যেসব ছাত্র সংগঠন প্রভাব বিস্তার করছে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘প্রত্যর্পণ কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয় এবং এই জাতীয় অনুরোধ করা ও গ্রহণে উভয় পক্ষেরই কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যে ব্যক্তি প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয় তার কাছেও বিকল্প রয়েছে। সেই বিকল্পগুলো এখনো প্রয়োগ করা হয়নি।

এছাড়া ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তিতে এমন বিধান রয়েছে যার অধীনে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে অপরাধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে তা যদি রাজনৈতিক অপরাধ হয়, তাহলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।

প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করার কারণ তালিকাভুক্ত ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরল বিশ্বাসে অভিযোগ না করা হলে’ কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করা যাবে না।

গত ২৩ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি নোট ভারবাল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন, তবে এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির ঢাকা সফরের সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরেছিল ভারত। ৯ ডিসেম্বর একদিনের সফর শেষে এক বিবৃতিতে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং একে অপরের উদ্বেগের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের ইচ্ছার’ কথা তুলে ধরেন তিনি। গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন ব্যক্ত করে মিশ্রি বলেন, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *